সন্দ্বীপে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের শুমারি কার্যক্রমে সুপারভাইজার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মুহসীনের বিরুদ্ধে। এক ভুক্তভোগী প্রার্থীর পাঠানো লিখিত বিবরণ অনুযায়ী, নিয়োগ পরীক্ষার দিন তাকে সাক্ষাৎকারে ডাকা হয়নি এবং পরে জানানো হয় তার আবেদনপত্র বাতিল করা হয়েছে— যদিও বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ তাকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর পাঠানো বার্তা হুবাহু তুলে ধরা হলো-
দীর্ঘদিন বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। এর পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এই প্রকল্পকে নিয়ে নানা কটাক্ষ করলেও আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সেই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে আগ্রহী প্রার্থীদের নিকট আবেদন আহ্বান করে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। সেখানে পদের নাম, আবশ্যিক যোগ্যতা, অগ্রাধিকারযোগ্য বৈশিষ্ট্য, অযোগ্যতার কারণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিস্তারিত উল্লেখ ছিল।
পরিপত্রে তথ্য সংগ্রহকারী পদের ক্ষেত্রে সরকারি বা আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত বেতনে কর্মরত ব্যক্তিদের আবেদন করার অযোগ্য বলা হলেও, সুপারভাইজার পদের ক্ষেত্রে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা উল্লেখ ছিল না। তাই কোনো তথ্য গোপন না করে আমি সুপারভাইজার পদে গত ২৩ জুলাই উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আবেদন জমা দিই।
আজ ছিল সেই ফ্যামিলি কার্ড শুমারির সুপারভাইজার নিয়োগ পরীক্ষার দিন। পরীক্ষা বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আমরা দুপুর ২টার মধ্যেই উপস্থিত হই। কিন্তু মুছাপুর ইউনিয়নের পরীক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু হয় প্রায় বিকেল ৫টায়।
একে একে সবাইকে ভাইভার জন্য ডাকা হলেও আমাকে ডাকা হয়নি। এক পর্যায়ে ভেতর থেকে একজন এসে জানালেন, আমার আবেদনপত্র নাকি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কীভাবে বা কেন আবেদনপত্রটি পাওয়া যাচ্ছে না, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেননি। মুছাপুর ইউনিয়নের উপস্থিত আবেদনকারীরা পুরো ঘটনাটির প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
অবশেষে মাগরিবের নামাজের পর আমি চলে আসি। কিন্তু আমার আবেদনপত্র কীভাবে গায়েব হলো, সেটি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সমাজসেবা অফিসের একজন স্টাফের কাছ থেকে জানতে পারি যে, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আমার আবেদনপত্র বাতিল করেছেন। তবে কী কারণে বাতিল করা হয়েছে, সেটিও তিনি জানাতে পারেননি।
পরে আমি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মুহসীনের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে কল দিই। তিনি কল রিসিভ না করায় বিষয়টি উল্লেখ করে একটি বার্তা পাঠাই। পরে তিনি আমাকে ফোন করে বলেন, আমাকে নাকি অনেকবার ডাকা হয়েছে কিন্তু পাওয়া যায়নি। আমি তাকে জানাই, আমি সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলাম, অথচ আমাকে কেউ একবারও ডাকেনি।
এরপর তিনি বলেন, আমি যেহেতু একজন সরকারি চাকরিজীবী, তাই আমার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। আমি তখন জানতে চাই, সেখানে তো অনেক শিক্ষক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন, তাহলে শুধু আমি কেন বাদ পড়লাম? জবাবে তিনি বলেন, আমি নাকি রাজস্ব খাতের চাকরিজীবী, আর তারা অন্য খাতের। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
বিষয়টি আমি উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে অবহিত করি। এরপর সমাজসেবা কর্মকর্তা আমাকে একাধিকবার ফোন দেন। আমি তখন গাড়িতে থাকায় ফোন রিসিভ করতে পারিনি। পরে তিনি আমাকে একটি বার্তা পাঠিয়ে বলেন, “আপনি আগামীকাল আসেন, আপনার পরীক্ষা নেওয়া হবে।”
এখন আমার প্রশ্ন হলো, যদি আমি আবেদন করারই অযোগ্য হয়ে থাকি, তাহলে আগামীকাল আমার পরীক্ষা কীভাবে নেওয়া সম্ভব? আর যদি আগামীকাল পরীক্ষা নেওয়া যায়, তাহলে আজ কেন নেওয়া হলো না?
আমি জানতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে কারা এবং কেন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন? এই ধরনের অসঙ্গতি ও নয়ছয়ের মাধ্যমে কাদের নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে?
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতমূলক ও অসঙ্গত আচরণে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে অনেক আবেদনকারীর মধ্যেই ক্ষোভ ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
(তথ্যসূত্র: সন্দ্বীপ টাইম ওয়াচকে ভুক্তভোগীর পাঠানো লিখিত বিবরণ, ইনবক্স)